বরগুনার বেতাগীতে মুজিবশতবর্ষে হতদরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২ ঘর বরাদ্দ চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের তালিকাপ্রাপ্ত বরাদ্দের ঘর হতদরিদ্রকে পেতে হলে ঘরপ্রতি গুনতে হবে ৩০-৪০ হাজার টাকা। ‘টাকা না দিলে ঘর পাবেন না কেউ‘ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে এমনটিই বলেছেন উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ আকন।

এ ঘটনায় বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত শের আলী হাওলাদারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম। তবে লিখিত এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ওই ইউপি সদস্য ইউসুফ আকন।

এদিকে চেয়ারম্যান বলছেন, ইউপি সদস্য ঘর পাইয়ে দিতে ঘুসগ্রহণ কিংবা দাবি করলে দায়ভার ইউনিয়ন পরিষদের না। প্রশাসন বলছেন, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত আশ্রয়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় বেতাগী উপজেলায় ১৯৯টি ঘর বরাদ্দ পায়। ভূমিহীনদের এ প্রতিটি ঘর বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে ১০টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়মানুসারে তালিকায় উল্লিখিত প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মিলে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া ভূমিহীন খুঁজে তালিকা তৈরি করে ইউএনও বরাবর জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। আর এই ঘর নির্মাণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) ওপর এবং ঘর নির্মাণের সার্বিক পরিচালনা করবেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।

অভিযোগপত্র ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, বেতাগীর বিবিচিনি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভূমিহীনদের মধ্যে ১০টি ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ সুযোগে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে তার লোকজন ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা করে তুলছেন। এ ছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়িয়াবুনিয়া আবাসনে বসবাসরত ভূমিহীন মৃত শের আলীর স্ত্রী রোকেয়া বেগমের কাছে ঘর বরাদ্দ পেতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন ইউপি সদস্য ইউসুফ আকন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইউসুফ আকন বলেন, আমার প্রতিপক্ষের লোকজন এ ধরনের বদনাম ছড়াচ্ছেন। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি।

অভিযোগের বিষয়ে বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নওয়াব হোসেন নয়ন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আর ইউপি সদস্য যদি টাকা নিয়ে থাকেন তা হলে তার দায়ভার ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা আমার না।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কলমকথা/ বিথী